গরমে হার্ট অ্যাটাক নাকি হিট স্ট্রোক—কীভাবে বুঝবেন পার্থক্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গরমে হার্ট অ্যাটাক নাকি হিট স্ট্রোক—কীভাবে বুঝবেন পার্থক্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 8, 2026 ইং
গরমে হার্ট অ্যাটাক নাকি হিট স্ট্রোক—কীভাবে বুঝবেন পার্থক্য ছবির ক্যাপশন:

তীব্র গরমে অসুস্থতার ঘটনা বাড়লেও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেই সেটিকে হিট স্ট্রোক বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গ অনেক সময় হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতারও ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই হৃদ্‌রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য গরমের এই সময়টা বাড়তি সতর্কতার।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দ্রুত পানি হারাতে শুরু করে। এর ফলে পানিশূন্যতা তৈরি হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হৃদ্‌যন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং হার্টকে দ্রুতগতিতে রক্ত পাম্প করতে হয়। ফলে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বের হয়ে গেলে রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা এমনকি জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে যদি তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে সেটিকে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোক বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ এটি হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যারও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। রোগীর মনে হতে পারে যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না।

এ ছাড়া বুক ধড়ফড় করা, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা পেশিতে টান ধরা—এসব উপসর্গও হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, বুক বা গলায় জ্বালাপোড়া এবং ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া। চিকিৎসকদের মতে, এগুলো হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে হিট স্ট্রোকের কিছু স্বতন্ত্র লক্ষণও রয়েছে। সাধারণত হিট স্ট্রোকে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ঘাম কমে যায় বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রোগী অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন, দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গরমের সময় হৃদ্‌রোগীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার, রোদে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

তবে যারা আগে থেকেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে কতটুকু পানি পান করা উচিত, সে বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে। জামাকাপড় ঢিলা করে দিতে হবে এবং ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। এরপরও যদি ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

গরমের এই সময়ে শরীরের ছোটখাটো উপসর্গও অবহেলা না করে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে বড় ধরনের বিপদ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদে ফ্যাসিবাদের ছায়া ফিরে এসেছে : জামায়াত আমির

সংসদে ফ্যাসিবাদের ছায়া ফিরে এসেছে : জামায়াত আমির