ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাজধানী তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব আগত ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগামী সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তেহরান অঞ্চলের দুটি প্রধান বিমানবন্দরের একটি। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এর আগে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিলে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে নতুন করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও আকাশপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে উদ্দেশ করে বলেন, “এবার যথেষ্ট হয়েছে।”
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে পাল্টা হামলা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এর আগে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দেয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা-পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাও এই পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
কসমিক ডেস্ক