কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের কসাইটারী শিমুলতলা এলাকায় মাছবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দুলু মিয়া (২৮) ও তার বাবা সিদ্দিক শেখ। তারা কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী বোগমারী পঞ্চগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বাবা-ছেলে মোটরসাইকেলে করে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা রাজারহাটগামী একটি মাছবাহী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যু ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে উপস্থিত স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে।
অপরদিকে গুরুতর আহত সিদ্দিক শেখকে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথেই তিনি মারা যান। এভাবে কিছু সময়ের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু ঘটে, যা এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করে।
দুর্ঘটনার পর মাছবাহী পিকআপ ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দাবি করেছেন, সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল ও নজরদারির অভাবই এমন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনায় নিহতরা বাবা-ছেলে। একজন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এবং অপরজন রংপুরে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা নিয়মিত নজরদারি ও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।