স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের মাধ্যমে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বপ্নের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিগত অর্জনের সম্ভাবনাও হারিয়ে গেছে তার।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন মেসি। ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে তিনি গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল—দুই পুরস্কারেরই অন্যতম দাবিদার ছিলেন। তবে ফাইনালে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কারই জেতা হয়নি তার।
বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১-এ উন্নীত করে এক সময় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠেছিলেন মেসি। কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে যান। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও হাতছাড়া হয় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েন মেসি। ফাইনালে একাধিক গোল করার সুযোগ না পাওয়ায় সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার তার নাগালের বাইরে চলে যায়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জেতার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।
ফিফা শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে নির্বাচন করে। পুরো আসরে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করলেও মাঝমাঠে তার নিয়ন্ত্রণ, বল দখল, পাসিং এবং রক্ষণ-আক্রমণের সংযোগ গড়ে তোলার দক্ষতা স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে ৭৫৩টি সফল পাস সম্পন্ন করেন, যার সফলতার হার ছিল ৯৪ শতাংশ। এছাড়া তিনি ১,৮০৩টি প্লেতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং ফাইনালে ১০৫টি পাসের মধ্যে ১০১টি সফল করেন। তার নেতৃত্বেই স্পেন আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে।
ফাইনালের পর পুরস্কার গ্রহণ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রদ্রি বলেন, দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে বিশ্বকাপ জেতা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। তিনি নতুন প্রজন্মকে কঠিন সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ শিরোপা, গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড—সবকিছুই এক রাতের ব্যবধানে হারিয়ে শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে লিওনেল মেসিকে। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিল অনস্বীকার্য।
কসমিক ডেস্ক