কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা-এ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে পৃথক দুটি অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং চারজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট গোমতী সেতু টোলপ্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদারীপুর ও পটুয়াখালী জেলার দুই বাসিন্দা—মো. রানা ব্যাপারী (৩৮) ও মো. সজিব (৩১)-কে আটক করা হয়।
অন্যদিকে একই উপজেলার মহাসড়কের পাশে মোহাম্মদপুর গ্রামে পৃথক আরেকটি অভিযানে ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন মো. সুজন (২৬) ও মো. বাবুল (৩৫)। তাদের কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান পরিচালনা করে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যার ফলে একই দিনে দুটি সফল অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে।
তবে জব্দ করা গাঁজার পরিমাণ নিয়ে কিছু তথ্যভেদ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হয় যে মোট ১৫ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার পর কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও কোনো মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই এই রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হলেও চোরাচালান বন্ধ করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে মহাসড়ক পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে মাদক পাচার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, দাউদকান্দিতে পুলিশের এই অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মাদক নিয়ন্ত্রণে টেকসই কৌশল গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।