বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান সম্প্রতি দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলেই তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
ভারতের মুম্বাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো তিনি আইনের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে চান। তবে এজন্য প্রয়োজন হয়রানি ছাড়া একটি নিরাপদ পরিবেশ।
দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব—এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে। আমি অতিরিক্ত কিছু চাই না, শুধু স্বাভাবিক নিরাপত্তা এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। সেটুকু নিশ্চিত করা হলে আমি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারি।”
সাকিব আরও দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখার কারণে তিনি সাধারণ কিছু আইনি বিষয়ও নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরার একটি পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। সে সময় তিনি সবকিছু ঠিক আছে জেনেই দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু দুবাই-এ পৌঁছানোর পর একটি ফোনকল পেয়ে তাকে দেশে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাকিব বলেন, “আমি প্লেনে উঠেছিলাম সব ঠিক আছে জেনেই। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পর ফোনে জানানো হলো, কিছু সমস্যা হয়েছে—না আসাই ভালো। তখন আর কী করার, সেখান থেকেই ফিরে যাই।”
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রসঙ্গেও তিনি খোলামেলা মত প্রকাশ করেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে তিনি এটিকে বড় ধরনের ভুল বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ক্রিকেটের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তৈরি করে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা ঠিক হয়নি। এতে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় নিজের নীরবতা নিয়েও ব্যাখ্যা দেন সাকিব। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থান করছিলেন এবং ইন্টারনেট সমস্যার কারণে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না বলে জানান। তিনি বলেন, শুধু সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিলে পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন হতো না।
আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য সমান এবং এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, তিনি যে দলে যুক্ত হয়েছেন, তার প্রতি তিনি অনুগত রয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তার অবস্থান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
সবশেষে, ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরার পথে বাধার বিষয়টিকে তিনি ‘সাজানো পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এলে তিনি দেশে ফিরে আসতে পারবেন।