হাওর এলাকায় আগাম ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করছে সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাওর এলাকায় আগাম ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করছে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
হাওর এলাকায় আগাম ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করছে সরকার ছবির ক্যাপশন:

হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় সরকার ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বে ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ৩ মে থেকে কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়-এর জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় দেশের হাওর অঞ্চলের ছয়টি জেলা—নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ—এর কৃষকদের উৎপাদিত বোরো ধান ও চাল সরাসরি সংগ্রহ করা হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে করে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়া থেকে কিছুটা রক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের অন্যান্য জেলায় পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ৩ মে থেকে ধান এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থাৎ হাওর অঞ্চলের জন্য এই সময়সূচি বিশেষভাবে এগিয়ে আনা হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে।

সংগ্রহ মূল্যও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ধান-চালের পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ফলে কৃষকরা পর্যাপ্ত সময় পাবেন তাদের উৎপাদিত ফসল সরকারি গুদামে বিক্রি করার জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই সময়মতো এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষকদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমে আসে।

এছাড়া এই ধরনের উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলে ভবিষ্যতে বাজার নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি কমে।


🌾 কৃষকদের জন্য সুবিধা

  • ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহায়তা
  • মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো
  • সরাসরি সরকারি ক্রয়ে লাভবান হওয়া

🟢 শেষ কথা

হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আগাম ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু কৃষকদের সহায়তাই করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনাকেও আরও শক্তিশালী করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
খামেনির অবর্তমানে থামবে না রাষ্ট্রযন্ত্র, আগাম ‘মাস্টারপ্ল্য

খামেনির অবর্তমানে থামবে না রাষ্ট্রযন্ত্র, আগাম ‘মাস্টারপ্ল্য