লেজার প্রযুক্তিতে ড্রোন ধ্বংস—ইসরায়েলের সহায়তা আমিরাতে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

লেজার প্রযুক্তিতে ড্রোন ধ্বংস—ইসরায়েলের সহায়তা আমিরাতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 1, 2026 ইং
লেজার প্রযুক্তিতে ড্রোন ধ্বংস—ইসরায়েলের সহায়তা আমিরাতে ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। উপসাগরীয় মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত-কে সহায়তা করতে দেশটি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে লেজারভিত্তিক ‘আয়রন বিম’ প্রযুক্তি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আয়রন বিম’ হলো একটি উন্নত লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা স্বল্পপাল্লার ড্রোন ও রকেট ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে পারে এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে একাধিক লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করতে সক্ষম। যুদ্ধের সময় এই প্রযুক্তির একটি সংস্করণ আমিরাতে পাঠানো হয়, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

এর পাশাপাশি ‘জেরুজালেম স্পেকট্রো’ নামে একটি উন্নত নজরদারি প্রযুক্তিও সরবরাহ করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে Elbit Systems, যা ইসরায়েলের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

শুধু প্রযুক্তি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই সহযোগিতা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতে ইসরায়েলি সেনাদের একটি ছোট দলও মোতায়েন রয়েছে, যারা এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের কাজ করছে। পাশাপাশি ইসরায়েল আমিরাতকে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, যাতে সম্ভাব্য হামলার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত Abraham Accords-এর পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান সামরিক সহযোগিতার উদাহরণ। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান আমিরাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে। শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন হামলার মুখে পড়ে দেশটি। যদিও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চাপপূর্ণ।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ইসরায়েল এমন কিছু প্রযুক্তিও ব্যবহার করেছে, যেগুলো তখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত ছিল না। এতে বোঝা যায়, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই সহযোগিতার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে নতুন প্রযুক্তি ও জোটের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ইরান এই সম্পর্ককে তাদের বিরুদ্ধে কৌশলগত জোট হিসেবে দেখছে। ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে সংঘাত আরও জটিল হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানি ড্রোন ঠেকাতে আমিরাতে ইসরায়েলের লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নয়, বরং একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এটি দেখায়, আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তি ও কৌশলগত জোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে ছাত্রদলে সাতজনের আনুষ্ঠানিক অন্তর্

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে ছাত্রদলে সাতজনের আনুষ্ঠানিক অন্তর্