ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শাহী ইসলাম (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সৎছেলে আলামিনকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে) ভোরে শাক্তা ইউনিয়নের গোয়ালখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহী ইসলামের পারিবারিক জীবনে একাধিক বিয়ে ছিল এবং তার সন্তানদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শাহী ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগমের আগের ঘরের ছেলে আলামিন তার সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। জানা গেছে, বাবা-ছেলে দুজনেই নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং অনেক সময় একসঙ্গেই নেশা করতেন।
ঘটনার দিন রাতেও তারা একই ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই তর্ক হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আলামিন তার সঙ্গে থাকা একটি ছুরি দিয়ে বাবার পেটে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহী ইসলাম।
নিহতের গোঙানির শব্দ শুনে পাশের ঘরে থাকা তার স্ত্রী নাজমা বেগম ও দুই মেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন। তারা শাহী ইসলামকে মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য রহিম খান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অভিযুক্ত আলামিনকে ঘটনাস্থলেই আটক করে রাখা হয়। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত আলামিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম সিদ্দিকী জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক অস্থিরতা থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। একই সঙ্গে নেশার বিষয়টিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা পারিবারিক বিরোধের এমন করুণ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক