প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর হওয়ায় এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দিনব্যাপী এই সফরে তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক এই কর্মসূচির মাধ্যমে সফরের সূচনা হবে।
পরে সকাল ১১টায় নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট শহরে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরপর দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) খননকাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ হিসেবে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন। যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে। এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সবশেষে সন্ধ্যা ৭টায় তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশন যৌথভাবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, চেকপোস্ট স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সীমিত সৌন্দর্যবর্ধনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এই সফরকে ঘিরে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন সংগঠন সফরকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল ও প্রস্তুতি সভা করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উন্নয়ন ইস্যু তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসংযোগ আরও জোরদার হতে পারে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদী খনন প্রকল্পগুলো স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম সিলেট সফর রাজনৈতিক ও উন্নয়ন উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক