রাজধানী ঢাকা-তে গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও শুক্রবার (১ মে) ভোরে নামা মুষলধারে বৃষ্টি নগরজীবনে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি করেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার টানা বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন সড়ক, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার ও হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেককে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
তবে দিনটি মে দিবস হওয়ায় সড়কে যানবাহন তুলনামূলক কম ছিল। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানজট বা ভোগান্তি কিছুটা কম হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হননি, যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক করে।
মিরপুর থেকে আসা এক সাংবাদিক জানান, ভোরের বৃষ্টিতে তার এলাকার বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। তিনি বলেন, প্রধান সড়কেও পানি জমে থাকায় অফিসে পৌঁছাতে তাকে যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ছয়টি বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাজধানীতেও আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।
একই সঙ্গে আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে বলেছে, ঢাকাসহ দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক