কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। দুই উপজেলা মিলে একমাত্র ফিলিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ১০ এপ্রিল রৌমারীর Brahmaputra Filling Station থেকে তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। এরপর থেকে স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। স্টেশনে গেলে কর্মীরা জানাচ্ছেন, “তেল নেই” অথবা “ফুয়েল কার্ড ইস্যু শেষ না হলে তেল দেওয়া যাবে না”। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
চর রাজিবপুর উপজেলায় একটি মিনি ফিলিং স্টেশন থাকলেও সেটিও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে দুই উপজেলার বাসিন্দারা একই সমস্যার মুখে পড়েছেন। রৌমারী ও রাজিবপুরের অনেকেই সাধারণত রৌমারীর একমাত্র ফিলিং স্টেশন থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতেন। কিন্তু এখন দুই সপ্তাহ ধরে তেল না পাওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সড়ক পরিবহনে। পেট্রল ও অকটেন চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ এখন রিকশা, ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়ে গেছে।
শিক্ষার্থীরাও এই সংকটের শিকার। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে সমস্যায় পড়ছে। অনেক অভিভাবক জানান, আগে মোটরসাইকেলে সহজে যাতায়াত করা গেলেও এখন রিকশা বা ভ্যানে নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময়মতো পৌঁছাতে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ ও রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, “এমন পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি। তেল নেই, বিদ্যুৎও পর্যাপ্ত নেই। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে জরুরি যাতায়াতে।”
অন্যদিকে, ইটালুকান্দা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল সরকার জানান, তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ১২–১৩ কিলোমিটার। তেল না পাওয়ায় তিনি এখন নিয়মিত হেঁটে স্কুলে যাচ্ছেন। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “একদিন তেল নিতে গিয়ে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।”
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহজামাল বলেন, ফুয়েল কার্ড ইস্যু প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় নতুন করে তেল আনা হয়নি। তবে প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তেল এনে সরবরাহ শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, তেল বিক্রির সময় বিশৃঙ্খলা ও চাপ সামলানোও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আসার পর দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তবে ফুয়েল কার্ড প্রসঙ্গে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে দুই সপ্তাহের জ্বালানি সংকটে রৌমারী ও চর রাজিবপুরে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কসমিক ডেস্ক