দিল্লিতে তীব্র দাবদাহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দিল্লিতে তীব্র দাবদাহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 29, 2026 ইং
দিল্লিতে তীব্র দাবদাহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা ছবির ক্যাপশন: দিল্লিতে তীব্র দাবদাহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা

তীব্র দাবদাহে কার্যত পুড়ে যাচ্ছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। দুপুরের সময় তাপমাত্রা যখন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখন পুরো শহর যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে আধুনিক শপিং মল ও এয়ারকন্ডিশনযুক্ত শোরুমে আরামদায়ক পরিবেশে ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন, অন্যদিকে রাস্তায় প্রচণ্ড রোদে ঘাম ঝরাচ্ছেন লাখো খেটে খাওয়া মানুষ। এই দুই বাস্তবতার ব্যবধানই এখন দিল্লির গরম পরিস্থিতিকে আরও তীব্রভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

দিল্লির পথঘাটে থাকা হকার, রিকশাচালক, অটোচালক এবং দিনমজুরদের জন্য এই গরম শুধু অসহনীয় নয়, বরং জীবনধারণের এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যেখানে নেই কোনো চাকরির নিশ্চয়তা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে তীব্র তাপপ্রবাহেও তাদের কাজ বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।

রিকশাচালক হরিশ চন্দ্রের মতো অনেকেই জানান, শরীর ক্লান্ত হয়ে এলেও কাজ বন্ধ করলে ঘরে খাবার জুটবে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকেই পরিস্থিতির চাপে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন, কারণ শহরের ঘিঞ্জি পরিবেশে গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এখন আগের চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে। দিল্লি শহরটি কংক্রিটের আধিক্য, যানবাহনের চাপ এবং গাছপালার অভাবে একটি “হিট আইল্যান্ড”-এ পরিণত হয়েছে। ফলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং রাতে খুব একটা কমছে না, যা মানুষের স্বাভাবিক বিশ্রামকেও ব্যাহত করছে।

সরকারিভাবে হিট অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করা হলেও বাস্তব জীবনে তা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। কারণ তাদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা। একদিন কাজ না করলে তাদের আয় কমে যায়, যা পরিবারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে।

চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র গরমে মানুষের শরীরে পানিশূন্যতা, হিট স্ট্রোক, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং কিডনির সমস্যার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার মানুষরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, কারণ সেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা খুবই সীমিত।

নারী শ্রমিকদের পরিস্থিতি আরও কঠিন। তারা একদিকে বাইরে কাজ করেন, অন্যদিকে ঘরে ফিরে রান্না ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বও পালন করেন। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

আবহাওয়া দপ্তর নিয়মিত সতর্কতা জারি করলেও বাস্তবে রাস্তায় থাকা মানুষের জন্য সেই সতর্কতা মানা কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহের কারণে ভারতের কর্মঘণ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।

দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বাস্তব ও ভয়াবহ উদাহরণ। শহরের উন্নয়ন, জনসংখ্যার চাপ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা মিলিয়ে এই সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় গণতন্ত্র অপরিহার্য : তারেক রহম

শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় গণতন্ত্র অপরিহার্য : তারেক রহম