ঈদের আগে নিঃস্ব কালশীর বস্তিবাসী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঈদের আগে নিঃস্ব কালশীর বস্তিবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 26, 2026 ইং
ঈদের আগে নিঃস্ব কালশীর বস্তিবাসী ছবির ক্যাপশন: ঈদের আগে নিঃস্ব কালশীর বস্তিবাসী

রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত হতদরিদ্র মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ঈদুল আজহার আনন্দ যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন এই অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং মানুষের সঞ্চিত শেষ সম্বল।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি দোকান ও বিভিন্ন মালামালও ভস্মীভূত হয়েছে। ফলে ঈদের আনন্দ ভুলে এখন অসহায় মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানোর শঙ্কায় রয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা পোড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের শেষ সম্বল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। কেউ পোড়া টিন, কেউবা অর্ধপোড়া আসবাবপত্র সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার ও প্রাথমিক সহায়তা বিতরণ করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন বকুলা বেগম জানান, তিনি সাত বছর ধরে পরিবার নিয়ে এই বস্তিতে বসবাস করছিলেন। আগুনে তার দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঘরের সব শেষ হয়ে গেছে, এখন মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই। ঈদের সময় যে অল্প খাবার পাওয়া যেত সেটিও এখন আর সম্ভব হবে না।

আরেক ভুক্তভোগী মো. নবাব জানান, তার ১৫টি ঘর ও একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। দীর্ঘ বছরের পরিশ্রমে গড়া সবকিছু এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন। দোকানে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ছিল বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জের শাহীন আলম, যিনি ভাঙারির দোকানে কাজ করেন, তিনিও আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তিনি একটি রিকশা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আগুনে তার ঘরের সবকিছুসহ ৪২ হাজার টাকা পুড়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন তা নিয়েও তিনি চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বস্তির অধিকাংশ পরিবারই নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে তাদের জীবনযাত্রা একেবারে থমকে গেছে। ঈদের সময় যেখানে পরিবার নিয়ে আনন্দ করার কথা ছিল, সেখানে এখন বেঁচে থাকার সংগ্রাম শুরু হয়েছে।

এদিকে সকালে বস্তির বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে নেমেছেন। কেউ কেউ পোড়া মালামাল বিক্রি করে সামান্য আয় করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন যানবাহন বস্তিতে ঢুকে উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে।

ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র শত শত পরিবারের ঈদ উৎসব যেন মুহূর্তেই শোক ও দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্য নিহত

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্য নিহত