স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি ও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পাচারের অভিযোগে ইরানে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, স্থানীয় সূত্রের বরাতে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যকেন্দ্র জানায়, তেহরানের ইউসুফাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই বাসাটি দীর্ঘদিন ধরে ‘গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং তথাকথিত শত্রু নেটওয়ার্কের কাছে সংবেদনশীল তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাত। এই কাজে তারা বিশেষভাবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের শিরাজ শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের সারভেস্তান এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি সংস্থার কাছে পাঠাতেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব কর্মকাণ্ড দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি, বিশেষ করে স্টারলিংক নিয়ে বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। উচ্চগতির এবং সীমাহীন সংযোগ সুবিধার কারণে এসব প্রযুক্তি যেমন সুবিধাজনক, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান সরকার ইতোমধ্যে এমন প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অবৈধ যোগাযোগ বা তথ্য পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান সরকার। তবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আরও তথ্য পরে জানানো হবে।
কসমিক ডেস্ক