নখকে অনেক সময় আমরা শুধু সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে নখ শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিতে পারে। তাই নখের যত্ন নেওয়া শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও জরুরি।
সুস্থ নখ সাধারণত মসৃণ, একরঙা এবং পরিষ্কার থাকে। এতে কোনো দাগ, গর্ত বা অস্বাভাবিক বাঁক দেখা যায় না। নখ মূলত শক্ত প্রোটিন কেরাটিন দিয়ে তৈরি হয় এবং নখের গোড়ায় (কিউটিকলের নিচে) জন্ম নিয়ে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের নখে হালকা রেখা বা দাগ দেখা যেতে পারে, যা সাধারণত স্বাভাবিক। তবে কিছু পরিবর্তন হলে সতর্ক হওয়া জরুরি, কারণ তা শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
নখ হঠাৎ রং পরিবর্তন করলে, কালো বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত। এছাড়া নখ বাঁকা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত পাতলা বা খুব মোটা হয়ে যাওয়া, ছোট ছোট গর্ত তৈরি হওয়া কিংবা নখ চামড়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া—এসবই সমস্যা নির্দেশ করতে পারে।
অনেক সময় চারপাশে ব্যথা, ফোলা বা রক্তপাত হলেও সেটি অবহেলা করা ঠিক নয়। নখের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব ধীরে বেড়ানোও শরীরের ভেতরের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
নখ সুস্থ রাখতে জটিল কিছু করতে হয় না, বরং কিছু সহজ অভ্যাসই যথেষ্ট। যেমন—
নখ সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। পানি বা রাসায়নিক কাজের সময় গ্লাভস ব্যবহার করলে নখ ভালো থাকে। নখ সোজা করে কাটতে হবে এবং ধারালো কিনারা মসৃণ করতে হবে।
হাতের সঙ্গে নখ ও কিউটিকলেও ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করা ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বায়োটিন সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।
নখ কামড়ানো একটি খারাপ অভ্যাস, যা নখ দুর্বল করে ফেলে। কিউটিকল টেনে ছেঁড়া বা উঠিয়ে ফেলা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহারও নখ শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে দিতে পারে।
অনেকেই নখে সমস্যা দেখা দিলে তা উপেক্ষা করেন, যা পরে বড় জটিলতার কারণ হতে পারে।
নখের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই সেলনে যান। তবে সেখানে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। পরিচ্ছন্ন ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেলন বেছে নেওয়া উচিত। কিউটিকল কেটে ফেলা থেকে বিরত থাকা ভালো। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।
যদি কোনো পণ্যে অ্যালার্জি থাকে, তবে আগে থেকেই তা জানানো উচিত।
কসমিক ডেস্ক