দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি করেছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার মতে, আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করবে এবং ধীরে ধীরে লোডশেডিং কমে আসবে।
বর্তমানে জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী জানান, তেল আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া থাকাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই সংকট মোকাবেলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ নির্ভরতা আরও স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি লোডশেডিং বন্ধ হওয়া সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এমন সংকটের প্রভাব কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান সংকটের মধ্যেও সরকার আশাবাদী—আগামী সপ্তাহ থেকেই লোডশেডিং কিছুটা কমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করবে।
কসমিক ডেস্ক