নেত্রকোনার Khaliajuri Upazila-তে ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক মৎস্য শিকারির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার ফেরিঘাট সংলগ্ন ধনু নদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি আব্দুল মোতালিব (৫৫)। তিনি Ishwarganj Upazila-এর বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি পেশায় একজন মৎস্য শিকারি ছিলেন এবং নিয়মিত নদীতে মাছ ধরতেন।
ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা সহকর্মী মুজিবুর রহমান পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তারা তিনজন ভোরে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে তারা প্রথমে মদন উপজেলার উচিতপুর এলাকায় যান এবং সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর সেখান থেকে খালিয়াজুরীর দিকে যাত্রা করে সকালেই ধনু নদে পৌঁছান।
সকালে নদীতে বড়শি ফেলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি। সকাল ৯টার দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
মুজিবুর রহমান বলেন, আচমকা এক বিকট শব্দে বজ্রপাত হয় এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তারা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়। নিহতের স্বজনরা খালিয়াজুরীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে Khaliajuri Police Station-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম বা মৌসুম পরিবর্তনের সময় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান করলে বজ্রাঘাতের ঝুঁকি বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থাকা, নদী বা জলাশয় থেকে দ্রুত সরে আসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তবুও সচেতনতার অভাব এবং জীবিকার তাগিদে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা কতটা জরুরি। বিশেষ করে যারা নদী বা খোলা পরিবেশে কাজ করেন, তাদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতিতে সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সবশেষে, আব্দুল মোতালিবের এই অকাল মৃত্যু তার পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক