কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নাটোরের সিংড়ায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষিসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সিংড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি হলরুমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। তিনি কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে দেওয়া হয় ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার। এই সহায়তার মাধ্যমে আউশ ধান চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের খরচ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, খরিপ-১ মৌসুমে আউশ ধানের উৎপাদন বাড়াতে এই প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এতে সরাসরি উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুণ্ডুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিতভাবে প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে। বিশেষ করে সার ও বীজের দাম বৃদ্ধির কারণে যে চাপ ছিল, এই সহায়তা তা অনেকটা কমিয়ে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আউশ ধান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন করা যায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক সময়ে উন্নত মানের বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সিংড়া উপজেলায় আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।a
কসমিক ডেস্ক