চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রধান চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর থেকেই তারা বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, আসামিপক্ষ থেকে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি তার খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাসায় যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে চারজনকে প্রধান আসামি করে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় এক দোকানি এবং তার কয়েকজন সহযোগী। ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে দ্রুত বিচার দাবি করেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমনকি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তারা আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধের প্রবণতা আরও বাড়বে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা জানান, মামলার পর থেকে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আসামিপক্ষের লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে মামলাটি তুলে নেওয়ার চাপও সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো আপস চান না—তার একমাত্র দাবি হলো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
অন্যদিকে, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা, মোবাইল ট্র্যাকিংসহ নানা কৌশল ব্যবহার করে তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের
কসমিক ডেস্ক