দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া প্রার্থীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রবিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এ সময় তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভোগান্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে। দ্রুততম সময়ে এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।
পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য ৩ জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া হাজার হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
তবে ফল প্রকাশের আড়াই মাস পার হলেও এখনো অনেক প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। এতে করে তারা আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও নিয়োগ কার্যকর না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। তারা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান এবং পদায়ন সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে এবং তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এখন সরকার ও আন্দোলনকারীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক