পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে শুধু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাই ব্যাহত হয়নি, বরং শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট দেখা দিয়েছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
রবিবার সকালে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, খালগুলো প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো দখল বা ভরাট হয়ে গেলে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবেশগত ভারসাম্য পর্যন্ত সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
দীপেন দেওয়ান বলেন, অতীতে খাল খননের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো নিয়মিতভাবে চালু ছিল না। বরং অনেক জায়গায় খাল দখল ও ভরাটের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে জলাবদ্ধতা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষক, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের স্বার্থ ও দেশের পরিবেশ রক্ষার কথা চিন্তা করেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানিসমস্যা সমাধান। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের কার্যক্রম যথাযথভাবে অব্যাহত রাখা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার আওতায় আবারও খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করবে না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করবে। পাশাপাশি এসব অঞ্চলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগণকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
খাল খনন কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৩৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই কাজগুলো স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা। তারা সবাই খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল ও জলাধার রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে পানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তাই নিয়মিত খাল খনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে দেশের কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে পার্বত্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে দেশের জল ব্যবস্থাপনা ও খাল পুনরুদ্ধার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জীবন ও কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক