সাইবার হামলার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার ব্যবস্থা থেকে প্রায় ২৫ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে, যা দেশটির অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই অর্থ চুরি করা হলেও বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে।
এই অর্থটি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ঋণ পরিশোধের অংশ ছিল, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমার আগে পাঠানো হয়েছিল। তবে সাইবার অপরাধীরা মাঝপথে অর্থটি আটক করে প্রকৃত গ্রাহকের পরিবর্তে অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে।
শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হর্ষণা সুরিয়াপ্পেরুমা জানান, অর্থ যথাসময়ে পাঠানো হলেও হ্যাকাররা ই-মেইলভিত্তিক অর্থ পরিশোধের নির্দেশনায় কারসাজি করে পুরো প্রক্রিয়াকে ভিন্ন পথে সরিয়ে দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পৌঁছানোয় বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার উপ-অর্থমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো জানান, একই কৌশলে ভারতকে পরিশোধের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। ব্যাংক হিসাবের তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয় এবং তখনই আগের চুরির ঘটনাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই সাইবার হামলা শ্রীলঙ্কার জন্য নতুন এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে। কয়েক বছর আগে দেশটি গুরুতর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এবং বিপুল বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সংকটে পড়ে। সেই সময় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছিল।
২০২২ সালে ব্যাপক জনঅসন্তোষের মধ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমান ঘটনায় কলম্বোতে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ম্যাথিউ ডাকওয়ার্থ জানিয়েছেন, অনিয়মের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তে সহায়তা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সরকারি আর্থিক লেনদেনে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক