পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সর্বশেষ এ অভিযানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters জানিয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন মাদক পাচার কার্যক্রম দমনের অংশ হিসেবে এ হামলা পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, নৌযানটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং তা অবৈধ মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অধীনস্থ United States Southern Command (সাউদার্ন কমান্ড) এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পরই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের মতে, নৌযানটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল এবং এতে অবৈধ কর্মকাণ্ডের শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে নিহত দুই ব্যক্তিকে “মাদক-সন্ত্রাসী” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাদের পরিচয় বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠছে।
সাউদার্ন কমান্ড এ ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে পানির ওপর থাকা একটি ছোট নৌযানে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের হলেও এতে হামলার তীব্রতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা এবং নজরদারি শক্তি প্রদর্শন করতে চায়।
তবে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch এবং Amnesty International দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযানের সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি সরাসরি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক পাচার দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হলেও, তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে হতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক সমালোচনা ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসনের সময় থেকেই মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন নৌযানগুলোর ওপর নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে পরিচালিত এসব অভিযানে ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং মানবাধিকার ইস্যুতেও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখছে, অন্যদিকে এ ধরনের অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখেও পড়ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ধরনের সামরিক অভিযান কতটা অব্যাহত থাকবে এবং তা কীভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কসমিক ডেস্ক