জাতিসংঘ ফোরামে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জাতিসংঘ ফোরামে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 24, 2026 ইং
জাতিসংঘ ফোরামে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান ছবির ক্যাপশন:

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি এবং জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো গঠনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। সেখানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্থায়নে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত সক্ষমতাকে ক্রমাগত সীমিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি স্থিতিশীল ও ন্যায্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে অসম ও সীমিত প্রতিনিধিত্বমূলক, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ পুরোপুরি প্রতিফলিত করতে পারছে না।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে টেকসই উত্তরণের ক্ষেত্রে সময় ও প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ, যাতে দেশগুলো ঝুঁকি ছাড়াই অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে যেতে পারে।

তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এসব উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণের ব্যয় হ্রাস করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অকার্যকর অবকাঠামো-সম্পর্কিত ঋণ এড়িয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থানমুখী খাতে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি করাও সময়ের দাবি।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পাচার হওয়া সম্পদ তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই অবস্থান উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্মিলিত স্বার্থ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ন্যায্যতার দাবি আরও জোরদার করে। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আহ্বান আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, জাতিসংঘ ফোরামে বাংলাদেশের বক্তব্য স্পষ্টভাবে একটি বার্তা দিয়েছে—বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরও ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই হওয়া প্রয়োজন, যাতে সব দেশ সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ পেতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পানির উৎস নিয়ে সংঘাতে চাদে প্রাণ গেল ৪২ জনের

পানির উৎস নিয়ে সংঘাতে চাদে প্রাণ গেল ৪২ জনের