ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করতে পারে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।
ট্রাম্প লিখেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাই যখন তেলের দাম বাড়ে, তখন আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করি।”
তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, “তেলের দাম বাড়া থেকে অর্থনৈতিক লাভ হতে পারে, কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধের ফলে সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকানরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সিনেটর কেলি বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ এই পরিস্থিতিতে কেবল বড় তেল কোম্পানিগুলোই লাভবান হচ্ছে।
২০২৮ সালের সম্ভাব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত মার্ক কেলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ট্রাম্প কেন এতে খুশি? কারণ তিনি কেবল ধনী ব্যক্তিদের কথাই ভাবেন।”
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতাও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।
উইসকনসিনের মার্ক পোকান এবং ভার্জিনিয়ার ডন বেয়ার ট্রাম্পের মন্তব্যকে সমালোচনা করে বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অর্থনৈতিক লাভের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাটা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উদাহরণ নয়।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনাকে ‘বোকামি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে তেলের ও গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে বেড়েছে।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশাই আরও বলেন, ট্রাম্প মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদক এবং রপ্তানিকারক দেশ।
তার মতে, এই অবস্থান অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বর্তমান প্রশাসনের শক্তিশালী জ্বালানি নীতির কারণে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
একই সময়ে ইরাকের একটি বন্দরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এ ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক