ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসভিত্তিক রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফরহাদ তার পোস্টে লেখেন, শিক্ষার্থীদের জীবন ও ক্যারিয়ারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার এবং তার সহযোদ্ধাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত আছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, তারা বেঁচে থাকতে এই ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজনীতি কোনোভাবেই ফিরতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্যাম্পাসে প্রচলিত কিছু বিতর্কিত সংস্কৃতি—যেমন গণরুম ও গেস্টরুম—অনেক শিক্ষার্থীর জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব প্রথার কারণে নতুন শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ ও অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাতো। ফরহাদ আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে দেওয়া হবে না।
এই প্রসঙ্গে তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘ভাই-বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রয়োজনে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তার বক্তব্যে একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে—এই লড়াই কোনোভাবেই থামবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন সময় ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন ছাত্রনেতার পক্ষ থেকে এই ধরনের কঠোর অবস্থান অনেকের কাছেই আশাব্যঞ্জক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপও প্রয়োজন। প্রশাসন, ছাত্রনেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও সহনশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ফরহাদের বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিরও প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে তার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। এতে বোঝা যায়, তিনি বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন।
সব মিলিয়ে, তার এই বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি শক্ত বার্তা বহন করছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, ভয়ভীতি ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এখন দেখার বিষয়, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং তা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
কসমিক ডেস্ক