চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য বিতরণ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ চালের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার সীমান্তবর্তী কুড়-লগাছি ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় এ অভিযোগ সামনে আসে। উপকারভোগীদের দাবি, তারা যে চাল পেয়েছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং চালের মধ্যে পোকা রয়েছে, যা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
চাল বিতরণের সময় উপস্থিত কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, চাল পরিষ্কার করার সময় পানিতে ছোট ছোট পোকা ভেসে উঠছে। এতে করে চাল রান্না করা তো দূরের কথা, ব্যবহারই করা যাচ্ছে না। ফলে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বল্পমূল্যে খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার আশায় তারা টিসিবির ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু যে চাল সরবরাহ করা হয়েছে, তা খাওয়ার উপযোগী নয়। তিনি বলেন, চাল ধোয়ার সময়ই পোকা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আরেকজন উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের দেওয়া সহায়তা যদি এভাবে নিম্নমানের হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য তা কোনো কাজে আসে না। তার মতে, এমন চাল মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে কুড়-লগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, টিসিবির পণ্য বিতরণের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি সংশ্লিষ্ট ডিলারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে বলে জানিয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবাইদুর রহমান সাহেল বলেন, সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে পোকাযুক্ত চাল সরবরাহ হওয়ার কথা নয়। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রীতে মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অনিয়মের যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের সমস্যা বারবার দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোরভাবে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দামুড়হুদায় টিসিবির চাল বিতরণ নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।