পদ্মা-মেঘনাসহ ছয় নদীতে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পদ্মা-মেঘনাসহ ছয় নদীতে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 27, 2026 ইং
পদ্মা-মেঘনাসহ ছয় নদীতে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছবির ক্যাপশন:

ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে চাঁদপুর অঞ্চলের পদ্মা-মেঘনাসহ ছয়টি নদীতে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা টানা মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় নির্ধারিত নদীসীমায় জাল ফেলা, মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত এবং পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

প্রতিবছরের মতো এবারও ২০০৬ সাল থেকে চালু থাকা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

চাঁদপুরের পদ্মা নদীমেঘনা নদী-সংলগ্ন নির্দিষ্ট অংশে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচরের চরভেরবী এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী অঞ্চল এতে অন্তর্ভুক্ত।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় ৯ হাজার ১০০ জেলেকে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হবে। এ সময় জেলেরা নৌকা ও জাল মেরামতসহ বিকল্প কাজে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করবে। নদীতে কেউ মাছ ধরতে নামলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশ উৎপাদন টেকসইভাবে বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়। জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

মতলব উত্তর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, নির্ধারিত সময়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হবে। মা-জাটকা রক্ষায় কঠোর নজরদারি চালানো হবে এবং কোনো অসাধু জেলে যাতে নদীতে নামতে না পারে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান, জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই প্রজনন ও পোনা সংরক্ষণে এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনের পর দেশ ছাড়ার সম্ভাবনা আইজিপি বাহারুল আলমের

নির্বাচনের পর দেশ ছাড়ার সম্ভাবনা আইজিপি বাহারুল আলমের