
বরকতময় রমজান মাস মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। অথচ সঠিক পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক সময় এই অমূল্য সময় অবহেলায় কেটে যায়। ইসলাম সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের বারবার সতর্ক করেছে।
এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُদুটি নিয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা ও অবসর সময়।(সহিহ বুখারি)
রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই এই মাসে সময় ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে ইবাদতে অধিক মনোনিবেশ করা। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে—
সেহরির আগের সময় দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় কেবল খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ, তওবা ও ইস্তেগফারে কাটানো উচিত। একইভাবে ইফতারের আগমুহূর্তও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। রাসুল ﷺ এই সময় দোয়া করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
আধুনিক সময়ে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের অনেক মূল্যবান সময় কেড়ে নেয়। রমজানে অনর্থক চ্যাটিং, গিবত কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সিয়াম শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকে পাপ থেকে সংযত রাখার নাম।
রমজানের শেষ দশকে রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত—লাইলাতুল কদর। তাই মধ্য রমজান থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। রাসুল ﷺ শেষ দশকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন।
সময় এমন এক অমূল্য সম্পদ, যা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। রমজান মাসের বরকত, রহমত ও মাগফিরাত লাভ করতে হলে সময়ের সঠিক বণ্টন অপরিহার্য। দুনিয়াবি ব্যস্ততা কিছুটা কমিয়ে আখিরাতের পুঁজি জমানোর চেষ্টা করলেই সিয়াম সাধনা সার্থক হবে।
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে এই পবিত্র মাসে সময়ের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার তৌফিক দান করেন—আমিন।