প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 21, 2026 ইং
প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছবির ক্যাপশন:

প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত এই সাম্প্রতিক অভিযানে নিহতরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউএস সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার পরিচালিত অভিযানে তিনজন নিহত হন। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘প্রাণঘাতী সামরিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বলা হয়, এটি এমন এক এলাকায় পরিচালিত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের পরিচিত রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে নিহত ব্যক্তিরা মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ৪৩টি পৃথক অভিযানে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

চলতি সপ্তাহেই ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানায়, তারা প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে তিনটি পৃথক অভিযানে মোট ১১ জনকে হত্যা করেছে। এতে করে সমুদ্রে পরিচালিত সামরিক অভিযানের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

লাতিন আমেরিকার কয়েকজন নেতা, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা এ ধরনের অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি এখতিয়ার নেই। সেখানে এভাবে অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, আউটবোর্ড ইঞ্জিনযুক্ত একটি স্থির নৌযান হামলার পর আগুনে পুড়ছে এবং ধীরে ধীরে পানিতে ভেসে যাচ্ছে। ভিডিওটি ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে ভিডিওতে নিহতদের পরিচয় বা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সাউল বলেন, নৌযানে হামলার ঘোষণা আসলে সমুদ্রে বেসামরিক লোকজন হত্যার স্বীকারোক্তির সামিল হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রসীমায় বিভিন্ন দেশের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান যদি স্বচ্ছতা ও প্রমাণ ছাড়া পরিচালিত হয়, তাহলে তা কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, মাদক পাচার ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা প্রশ্নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, নির্বাচন নিয়ে সংশয় জামায়াত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, নির্বাচন নিয়ে সংশয় জামায়াত