প্রায় দুই যুগ পর উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এই সফরকে ঘিরে তিন জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও বড় মাঠে, দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে এবং নীলফামারী পৌর মাঠে আয়োজিত পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর উত্তরবঙ্গের এই তিন জেলায় তার সরাসরি নির্বাচনী বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর সফরের সময় তারেক রহমান তার নানা-নানির কবর জিয়ারত করতে পারেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সফরকে ঘিরে দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার এই সফরকে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা থেকে উত্তরণের একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। এসব বিষয়ে তার কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক দিকনির্দেশনা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি মাঠে এসে কথা বলায় সাংগঠনিকভাবে তারা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে প্রচারণা, প্রস্তুতি সভা ও দলীয় কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পূর্বঘোষিত সমাবেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী জানান, নির্ধারিত সমাবেশের পরিবর্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি গিয়ে বক্তব্য দিলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। এতে দলের নির্বাচনী বার্তা জনগণের কাছে সহজে পৌঁছানো যাবে বলে তারা মনে করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, উত্তরবঙ্গ সফর এবং ঢাকার কর্মসূচির এই পরিবর্তন বিএনপির চলমান নির্বাচনী কৌশলের অংশ। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ সফর ও পরবর্তী ঢাকা মহানগরীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। উত্তরাঞ্চলের মানুষও এই সফরের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও সমস্যার প্রতিফলন দেখার আশায় রয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক