যুক্তরাষ্ট্রের নিরস্ত্রীকরণ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল উত্তর কোরিয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুক্তরাষ্ট্রের নিরস্ত্রীকরণ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল উত্তর কোরিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 8, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের নিরস্ত্রীকরণ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল উত্তর কোরিয়া ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাষ্ট্রের নিরস্ত্রীকরণ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির শাসক পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করবে।

তিনি বলেন, দেশের আত্মরক্ষার জন্য গড়ে তোলা পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি কোনোভাবেই দুর্বল করা হবে না। বরং বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার নীতি অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান—উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করা—বাস্তবতাবিবর্জিত এবং পুরনো চিন্তার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সম্ভাব্য উত্তর কোরিয়া সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় সাত বছর পর এটি হতে পারে তার প্রথম সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিম ইয়ো জং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অস্বীকার করে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে একমত হয়েছেন—এমন প্রচার সঠিক নয়। তার মতে, এ ধরনের আলোচনা মূলত গুজব এবং প্রকৃত কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে।

অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনে তিনি অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ শুধু সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও। চীনের প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফরের আগে এমন শক্তি প্রদর্শন উত্তর কোরিয়ার অবস্থানকে আলোচনায় আরও দৃঢ় করার কৌশল হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরির প্রচেষ্টাও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নীতি আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স