বাজারদর কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থার বাইরে খোলাবাজারে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ কার্যক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে সংগ্রহ করা পণ্য কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের চিন্তা থেকে নেওয়া সম্পূর্ণ নতুন একটি উদ্যোগ বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে ভোজ্যতেল দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রথম চালান সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। টিসিবি চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ চালানকে ‘পাইলট লট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তিন থেকে চার মাস চালিয়ে বাজারের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা হবে। পণ্য কার্যকরভাবে বিক্রি করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি সম্প্রসারণ করা হবে। ভোজ্যতেলের পর কম দামে সংগ্রহ করা সম্ভব হলে ডাল ও চিনিও খোলাবাজারে বিক্রির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
টিসিবি জানিয়েছে, এ কার্যক্রমে সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। বরং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে কম মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করা হবে। পণ্য ও সংগ্রহমূল্যের ওপর নির্ভর করে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন টিসিবি চেয়ারম্যান।
এ উদ্যোগ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির বিকল্প নয়; বরং এর পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হবে। সরবরাহ বা দামের ওপর চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য বাজারে আনা হবে।
টিসিবির বিদ্যমান বাজেটের মধ্যেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এজন্য তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। পাইলট কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক