বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত। তাঁর মতে, দ্রুত এই অবকাঠামো নির্মাণ করা না গেলে গ্যাসের ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেভিড হাসনাত জানান, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি। ফলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
বিপ্পা সভাপতি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোর মাধ্যমে তৃতীয় এফএসআরইউ পর্যন্ত গ্যাস পরিবহন করা সম্ভব। তবে এরপর সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পাইপলাইন প্রয়োজন হবে, যা নির্মাণে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগতে পারে। তাই তৃতীয় এফএসআরইউ নির্মাণের কাজ সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার আহ্বান জানান ডেভিড হাসনাত। পাঁচ বছরের মধ্যে এ ধরনের টার্মিনাল নির্মাণ করা গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
দেশীয় কয়লার মজুত ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা ও এলএনজির সমন্বিত ব্যবহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতের জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলা এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক