১৯৯১ সালে চীনের আনহুই প্রদেশের একটি গ্রামের স্কুলে তোলা সাদা-কালো একটি ছবি বিশ্বজুড়ে শিক্ষার প্রতি আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ছবিতে দেখা যায়, আট বছরের এক শিশু গভীর মনোযোগে সামনে তাকিয়ে আছে। শিশুটির বড় বড় চোখে ফুটে উঠেছিল শেখার তীব্র আগ্রহ। পরে ছবিটি পরিচিতি পায় ‘বড় চোখ’ নামে। ছবিটির আসল নাম ছিল ‘আমি স্কুলে যেতে চাই’।
ছবিটি তুলেছিলেন চীনের আলোকচিত্রী সিয়ে হাইলং। ‘প্রজেক্ট হোপ’-এর কার্যক্রম নথিবদ্ধ করতে গিয়ে তিনি চীনের দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু স্কুলছুট শিশুর জীবন ক্যামেরাবন্দি করেন। তাঁর তোলা ছবিগুলোর মধ্যে ‘বড় চোখ’ দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে এবং প্রকল্পটির অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়।
ছবির শিশুটির নাম সু মিংজুয়ান। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল অনিশ্চিত। সামান্য স্কুল ফিও পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করত। কিন্তু ছবি প্রকাশের পর মানুষের সহায়তা পেতে শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন সু।
তবে নিজের জীবন বদলে যাওয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। ছোটবেলা থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ২০০৬ সালে সিয়ে হাইলংয়ের সঙ্গে ‘বড় চোখ’ ছবির স্বত্ব নিলামে তুলে পাওয়া অর্থ দিয়ে তিব্বতের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় স্কুল নির্মাণে সহায়তা করেন। পরে নিজের নামে শিক্ষা তহবিল গড়ে তোলেন। সেই তহবিলের অর্থে একাধিক গ্রামীণ স্কুল নির্মাণেও সহায়তা করা হয়েছে।
সু বর্তমানে ব্যাংকে চাকরির পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। তাঁর জীবন তাই শুধু একটি বিখ্যাত ছবির গল্প নয়; বরং একটি শিশুর শিক্ষার স্বপ্ন কীভাবে অন্য অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ বদলের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে, তারও উদাহরণ।
‘বড় চোখ’ ছবিটি আজও মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষার সুযোগ একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে, আর সেই পরিবর্তনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
কসমিক ডেস্ক