দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। শনিবার (৮ আগস্ট) আইআইটি দিল্লির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রায় তিন হাজার জেন-জি তরুণের সামনে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে প্রশ্ন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন মোদি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, প্রশ্ন করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্বের কথাও মনে রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের বিষয় নয়; বরং সব প্রজন্মেরই এ দায়িত্ব রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রজীবন ও কর্মজীবন এক নয়। ক্যাম্পাসের বাইরে জীবনের পরীক্ষাগুলোও ভিন্ন ধরনের। সেখানে প্রশ্নের পাশাপাশি নিজেদের উত্তরও নিজেদের খুঁজে নিতে হয়। জীবনের লড়াইয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নপত্র থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি বলেন, প্রশ্ন করা ভালো। তবে সেই প্রশ্নের উত্তরও নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। তাঁর বক্তব্যে শেখার গুরুত্বও উঠে আসে। তিনি বলেন, যে শিখবে, সে-ই জিতবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সবার মনে রাখা উচিত।
ভারতের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, আগের প্রজন্মের মানুষের লড়াইয়ের ফলে ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে। এখন আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশের যুবসমাজ এগিয়ে গেলে ভারতও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন আইআইটি দিল্লিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটার ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন মোদি। সমাবর্তনে তিন হাজারের বেশি স্নাতক শিক্ষার্থী ও প্রায় ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক তাঁর কাছ থেকে ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’, ‘ডিরেক্টরস গোল্ড মেডেল’, ‘শঙ্কর দয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল’ ও ‘পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল’সহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পর মোদির এই প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
কসমিক ডেস্ক