ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে—এমন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বিশেষ ধরনের গোলাবারুদের বিশাল মজুত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে নতুন অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অস্ত্র মজুত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানও ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি এসব তথ্য ফাঁসকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং Precision Strike Missile-এর মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছিল রয়টার্সও, যেখানে বলা হয়, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্যাট্রিয়ট এবং থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর দ্রুত ব্যবহৃত হওয়ায় নতুন উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেড়ে গেছে, যা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা বিদ্যমান। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির হাতে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
কসমিক ডেস্ক