নীলফামারীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা কারাগার থেকে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাতকড়া পরা অবস্থায় জানাজায় উপস্থিত হন।
জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জেলা কারাগার থেকে তাকে বের করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নীলফামারী শহরের ডাকবাংলো সার্কিট হাউস ঈদগাহ মাঠে নিয়ে আসা হয়। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সেখানে অনুষ্ঠিত মায়ের জানাজার নামাজে অংশ নেন তিনি। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় রংপুর জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, আদালতের অনুমতি অনুযায়ী মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য শাহিদ মাহমুদকে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজাকে কেন্দ্র করে শহরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পুরো কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহিদ মাহমুদ বর্তমানে একাধিক মামলার আসামি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিশেষ মানবিক বিবেচনায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে কারাবন্দিদের স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দিয়ে জানাজা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক