রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক, জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেন রবিবার রাতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ছোড়া ৬৩৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত এঙ্গেলস শহরে ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুইজন নিহত হন। পাশের সারাতোভ শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরের উদমুর্তিয়া অঞ্চলে তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সীমান্তবর্তী বেলগোরোড অঞ্চলে আরও তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল এঙ্গেলসের রুশ সামরিক ঘাঁটি, যেখানে দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে, এবং সারাতোভের একটি তেল শোধনাগার। তিনি বলেন, এসব হামলা রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাব এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী যুদ্ধকে সেই উৎসে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে এটি শুরু হয়েছিল।
ইউক্রেনের দাবি, হামলার পর এঙ্গেলসের সামরিক ঘাঁটি, সারাতোভের তেল শোধনাগার এবং পশ্চিম রাশিয়ার কালুগা অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি যাচাইবিহীন ভিডিওতেও সারাতোভের তেল স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
এদিকে ইউক্রেন সামারা অঞ্চলে অবস্থিত রুশ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর একটি লজিস্টিক গুদামেও হামলার দাবি করেছে। কিয়েভের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক