রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশুতোষ ভারশ্নেয় তার নিবন্ধে দাবি করেছেন, শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া সিজেপি-সমর্থিত ছাত্র আন্দোলন ভারতের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তার মতে, আন্দোলনটি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি বিজেপি সরকারের শাসনব্যবস্থা, ভিন্নমত দমন এবং জনমত নিয়ন্ত্রণের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধে রূপ নিয়েছে।
নিবন্ধে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ‘দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সম্পর্কে করা পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভয় ও দমনের পরিবেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেও তৈরি হতে পারে এবং সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন সেই পরিবেশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তা বিজেপির দীর্ঘদিনের অনলাইন প্রচার কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সরকারবিরোধী সমালোচনা, ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ান আগের মতো কার্যকর হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিজেপি আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। তবে আপাতত ভিন্নমত প্রকাশের একটি নতুন পরিসর তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন লেখক।
আশুতোষ ভারশ্নেয়ের মতে, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শিক্ষা ইস্যু খুব কমই জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। সেই বিবেচনায় বর্তমান ছাত্র আন্দোলন ভবিষ্যতের রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের ফলে বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (এসপি) রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীর আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দৃশ্য তরুণদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক