যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলার পর দেশজুড়ে সব সামরিক ঘাঁটি ও শিবিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইরাক সরকার। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি ফালেহ আল-জাইদির নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক গোয়েন্দা পরিকল্পনাও কার্যকর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সামরিক মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানান, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, এসব গোষ্ঠী মার্কিন বাহিনী এবং সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে পিএমএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তাদের ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
হামলার পর ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ঘটনাটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। বাগদাদের দাবি, অভিযানের বিষয়ে ইরাক সরকারকে আগে থেকে কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি।
তবে শুক্রবার জারি করা সামরিক সতর্কতার সঙ্গে ২৯ জুলাইয়ের হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। একইভাবে সতর্কতা কতদিন কার্যকর থাকবে বা এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে কি না, তাও প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক