শিশুদের শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশে ভয়ভীতি বা শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে স্নেহ ও সম্মানভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত আলেম ড. সাজ্জাদ নোমানি। তিনি মনে করেন, শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশই পারে আত্মবিশ্বাসী ও চরিত্রবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন-এর আমন্ত্রণে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. নোমানি বলেন, আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ইতিবাচক পদ্ধতি, ভালোবাসা ও সহানুভূতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু মাদরাসায় এখনো শাসনের নামে মারধর বা কঠোর আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শিশুদের ভয় দেখিয়ে নয়, বরং সন্তানতুল্য ভালোবাসা দিয়ে শেখাতে হবে।’ একজন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করেন, তখন শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং তাদের চরিত্র গঠনও দৃঢ় হয়।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এ ধরনের সমস্যা পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র নয়। বরং বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অধিকাংশ মাদরাসায় অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সেমিনারে উপস্থিত আলেমরাও তার বক্তব্যকে সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা একমত হন যে, দেশের সব মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুবান্ধব শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ একটি ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক, নৈতিক ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।v
কসমিক ডেস্ক