জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামোতো প্রিফেকচারে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পে অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুমামোতো প্রিফেকচারাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিখোঁজের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাশিমা শহরের অ্যাওন মল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ব্যস্ত কেনাকাটার সময় ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় তিন হাজার ক্রেতাকে দ্রুত পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে মলের একটি অংশে বিস্ফোরণের পর দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ইয়াতসুশিরো এলাকায় নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ-এর একটি কারখানার বিশাল চিমনি ধসে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখান থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো একজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের পর তীব্র গরমের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার মানুষ ৪০০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া প্রায় ২৩ হাজার ঘরবাড়ি এখনো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহু ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় এবং নতুন করে আফটারশকের আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে পারছেন না। উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, আর স্বজনদের খোঁজে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
কসমিক ডেস্ক