পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওকে) বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে পাকিস্তান কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেছেন কাশ্মীরি অধিকারকর্মীরা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। তাদের দাবি, রাওয়ালাকোট ও মিরপুরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্র্যাডফোর্ডে অংশ নেওয়া বিভিন্ন কাশ্মীরি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, সেখানে গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে পিওকেতে টানা ৫২ দিন ধরে চলা আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন।
সোমবার যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর হাজারো মানুষ রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই কর্মসূচিতে বাধা দিতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।
আন্দোলনের নেতারা দাবি করেছেন, সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। জেএএসি জানিয়েছে, ৫ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ৬৭ জনে পৌঁছেছে। তবে এই সংখ্যাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতি ঘিরে পিওকের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে কাশ্মীরি অধিকারকর্মীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক