সরকারি চাকরিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যানগত বিষয় নয়; এটি নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ পদে কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, জেলাভিত্তিক ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত ছিল।
পরে ২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের পর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কোটা ব্যবস্থা বহাল রেখে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করলেও একই বছরের জুলাইয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব গ্রেডে ৯৩ শতাংশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে। বর্তমান ব্যবস্থায় ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এতে নারীদের জন্য পৃথক কোনো কোটা রাখা হয়নি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, নারী কোটা কার্যকর থাকা সময়ে ৩৪তম, ৩৫তম, ৩৬তম ও ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩৩৪ জনের সুপারিশের মধ্যে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ২২ শতাংশ, যা সরকারি চাকরিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে বলে সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনটি সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করতে নারী কোটা পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক