বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ অনেকের জন্য জরুরি সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এই সুবিধাটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং এটি একটি ঋণ হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ, গ্রাহক আগাম যে ব্যালেন্স ব্যবহার করেন, তা পরবর্তীতে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
ইসলামে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা শিরক ব্যতীত অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু মানুষের হক বা অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, কোনো মুমিনের আত্মা তার ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ না করলে পরকালের মুক্তি বিলম্বিত হতে পারে।
মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স যেহেতু একটি ঋণ, তাই এটি পরিশোধ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। যদি কেউ জীবদ্দশায় এই ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে প্রথমেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার বণ্টনের আগেই মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক।
তবে যদি কেউ আন্তরিকভাবে ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখেন কিন্তু সুযোগ পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতের আশা করা যায়। কারণ আল্লাহ বান্দার নিয়ত সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। অন্যদিকে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করেন, তাহলে তা গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং পরকালে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
এই প্রেক্ষিতে মুসলমানদের জন্য করণীয় হলো—ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সকে সাধারণ সুবিধা হিসেবে না দেখে ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা, সুযোগ পেলেই দ্রুত তা পরিশোধ করা এবং নিজের সব ঋণের হিসাব পরিষ্কার রাখা। পাশাপাশি, কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীদের উচিত তার বকেয়া ঋণ পরিশোধে সচেষ্ট হওয়া।
সবশেষে বলা যায়, মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ছোট একটি অঙ্ক হলেও এর ধর্মীয় গুরুত্ব অনেক বড়। তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত সব ধরনের ঋণ দ্রুত পরিশোধ করে আল্লাহর দরবারে দায়মুক্ত থাকার চেষ্টা করা।
কসমিক ডেস্ক