দীর্ঘ চার বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আবারও সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি নিচ্ছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সংঘাতের মূল কারণ—ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার—কখনোই পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব এখন ইয়েমেনেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে হুতি গোষ্ঠী।
হুতি নেতা আবদুলমালিক আল-হুতি এক ভাষণে জানান, প্রয়োজন হলে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তুত। অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হুতিরা ইরানের স্বার্থে কাজ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
বর্তমান উত্তেজনার অন্যতম কারণ লোহিত সাগর। হরমুজ প্রণালীতে সংকটের কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এখন অনেকাংশে লোহিত সাগরনির্ভর। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হুতিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে গাজা যুদ্ধ এবং পরবর্তী আঞ্চলিক উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় এসে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমানের অবতরণচেষ্টা। অস্ত্র বহনের অভিযোগে সৌদি জোট বিমান হামলা চালিয়ে বিমানটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে। এর পরপরই হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত থাকলে হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
কসমিক ডেস্ক