দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে আবার চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ রুটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে জাপানে বসবাসরত প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি সরাসরি সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে অলাভজনক বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি করে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রী চাহিদা ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আফরোজা খানম বলেন, এই বিমানসেবা শুধু যাত্রী পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে এবং দুই দেশের অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং সেই লক্ষ্যেই এই রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক রুট চালু করা নয়, বরং জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা। তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এই রুট আবার বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ৫০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন
কসমিক ডেস্ক