কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহন আরও সহজ করতে নির্মিত ‘গোর্ডি হাউ’ আন্তর্জাতিক সেতুতে সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরু হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চালু হওয়া এই সেতুকে উত্তর আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর শহরে ফিতা কেটে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কয়েক বছর ধরে চলা বহু-বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিংবদন্তি কানাডিয়ান হকি তারকা গোর্ডি হাউ-এর নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। ‘মিস্টার হকি’ নামে পরিচিত এই ক্রীড়াবিদ যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট রেড উইংসের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছিলেন।
মার্কিন পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কানাডার মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ফলে ডেট্রয়েট-উইন্ডসর সীমান্ত দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এতদিন ভারী বাণিজ্যিক ট্রাক চলাচলের প্রধান ভরসা ছিল প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো অ্যাম্বাসেডর ব্রিজ। নতুন ছয় লেনের গোর্ডি হাউ সেতু চালু হওয়ায় পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রায় ১.৫ মাইল বা ২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির সর্বোচ্চ অংশ নদীর পৃষ্ঠ থেকে ১৫১ ফুট বা ৪৬ মিটার উঁচু। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বৈধ পরিচয়পত্রধারী পথচারী ও সাইকেল আরোহীরাও বিনামূল্যে এই সেতু ব্যবহার করতে পারবেন।
২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রকল্পটি শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগে। প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে কানাডা সেতুটি নির্মাণ করেছে। দুই দেশের সাম্প্রতিক এক চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর সেতুর টোল আয়ের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে কানাডা।
এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পড়ে। অন্টারিওতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার এবং মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ বাতিল করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক মতপার্থক্য থাকলেও গোর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, সীমান্ত বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
কসমিক ডেস্ক